বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি বড় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ে। শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দেশটি। অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ হলো শেষ ষোলোর গণ্ডিতেই। শনিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় দুই দলকে। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিল তাদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, নরওয়ে পরিকল্পিত আক্রমণ এবং দৃঢ় রক্ষণভাগের সমন্বয়ে ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। খেলার প্রথম দিকেই জালে বল জড়িয়েছিল নর্ডিক প্রতিনিধিরা। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় সেটি অফসাইড হওয়ায় গোলটি বাতিল করা হয়। তবুও দমে যায়নি নরওয়ে। ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে তারা ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে। অন্যদিকে, ম্যাচে বড় সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে সেলেসাওরা। সেই ব্যর্থতার মাশুলও গুনতে হয়েছে তাদের। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে প্রথম গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও আরেকটি গোল করে ব্রাজিলের বিপক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। হালান্ডের জোড়া গোলে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ব্রাজিল। ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি আদায় করে নেয়। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান অধিনায়ক নেইমার। তবে সেটিই ছিল ব্রাজিলের শেষ সান্ত্বনা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। অন্যদিকে, শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করা ব্রাজিলকে বিদায় নিতে হলো প্রত্যাশার অনেক আগেই। হালান্ডের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং নরওয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসরে অন্যতম বড় চমক হয়ে থাকবে।